স্বামী নিগমানন্দের জীবন: এক নাস্তিক তরুণের জগদ্গুরু হয়ে ওঠার বিস্ময়কর কাহিনী

ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে এমন অনেক মহামানবের সন্ধান পাওয়া যায়, যাঁদের জীবন আমাদের সাধারণ চিন্তাধারার সীমানাকে হার মানায়। এমনই এক বিস্ময়কর, রোমাঞ্চকর এবং অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনের অধিকারী ছিলেন শ্রী শ্রী স্বামী নিগমানন্দ পরমহংসদেব। যিনি একসময় ঈশ্বর, ধর্ম এবং সাধু-সন্ন্যাসীদের অস্তিত্ব নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ পোষণ করতেন, তিনিই কঠোর সাধনার মাধ্যমে কীভাবে সনাতন ধর্মের চার মার্গ—তন্ত্র, জ্ঞান, যোগ এবং প্রেমে সর্বোচ্চ সিদ্ধি লাভ করে ‘জগদ্গুরু’ বা ‘সদগুরু’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন, তা সত্যিই এক রূপকথার মতো মনে হয়।

জন্ম ও শৈশব: এক নির্ভীক ও স্পষ্টবাদী বালকের বেড়ে ওঠা

ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে এমন অনেক মহামানবের সন্ধান পাওয়া যায়, যাঁদের জীবন আমাদের সাধারণ চিন্তাধারার সীমানাকে হার মানায়। এমনই এক বিস্ময়কর, রোমাঞ্চকর এবং অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনের অধিকারী ছিলেন শ্রী শ্রী স্বামী নিগমানন্দ পরমহংসদেব। যিনি একসময় ঈশ্বর, ধর্ম এবং সাধু-সন্ন্যাসীদের অস্তিত্ব নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ পোষণ করতেন, তিনিই কঠোর সাধনার মাধ্যমে কীভাবে সনাতন ধর্মের চার মার্গ—তন্ত্র, জ্ঞান, যোগ এবং প্রেমে সর্বোচ্চ সিদ্ধি লাভ করে ‘জগদ্গুরু’ বা ‘সদগুরু’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন, তা সত্যিই এক রূপকথার মতো মনে হয়।

১৮৮০ সালের (বাংলা ১২৮৬ সালের শ্রাবণ মাস) পবিত্র ঝুলন পূর্ণিমার দিন নদীয়া জেলার কুতবপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী নিগমানন্দ। তাঁর পিতার নাম ছিল ভুবন মোহন চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা যোগেন্দ্র মোহিনী দেবী। তাঁর পূর্বাশ্রমের নাম রাখা হয় ‘নলিনীকান্ত’। পদ্মফুল যেমন সূর্যের আলোয় বিকশিত হয়, তেমনই নলিনীকান্ত নামের অর্থ ছিল দীপ্তিমান সূর্য। পরবর্তীতে এই নামের সার্থকতা প্রমাণ করে তিনি সত্যই আধ্যাত্মিক জগতের এক প্রখর সূর্য হয়ে উঠেছিলেন।

ছোটবেলা থেকেই নলিনীকান্ত ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, নির্ভীক এবং স্পষ্টবাদী। তিনি ছিলেন তাঁর মায়ের অত্যন্ত আদরের। গ্রামের যেকোনো অন্যায় বা অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়াতেন। তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার এক অদ্ভুত সহজাত ক্ষমতা ছিল, যার ফলে গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত এবং ভয়ও পেত। তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না বা কোনো অন্যায় কাজ করতেন না। একবার নদীতে দুটি ছেলেকে ডুবতে দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি তাদের উদ্ধার করেছিলেন। আবার গ্রামের কোনো নিম্নবর্ণের মানুষের মৃত্যু হলে যখন তথাকথিত উচ্চবর্ণের লোকেরা মৃতদেহ ছুঁতে অস্বীকার করত, তখন নলিনীকান্ত বন্ধুদের নিয়ে সেই মৃতদেহের সৎকার করতেন।

উপনয়ন ও সন্ন্যাসের পূর্বলক্ষণ

নলিনীকান্তের বয়স যখন এগারো বছর, তখন তাঁর উপনয়ন বা পৈতে হয়। হিন্দু প্রথা অনুযায়ী, উপনয়নের সময় ব্রহ্মচারী বালককে ভিক্ষা গ্রহণের পর মায়ের কাছে ফিরে আসার আগে মাত্র তিন পা অগ্রসর হতে হয়। কিন্তু নলিনীকান্ত কিছুতেই তিন পা গিয়ে থামলেন না; তিনি চার-পাঁচ পা এগিয়ে গিয়ে দুষ্টুমি করে হাসতে লাগলেন। সে যুগে বিশ্বাস করা হতো যে, কোনো ব্রহ্মচারী বালক যদি ভিক্ষা গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে যায়, তবে সে ভবিষ্যতে সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হবে। তাঁর এই আচরণ দেখে পরিবারের মহিলারা, বিশেষত তাঁর মা, অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন।

নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা

নলিনীকান্ত পাছে সন্ন্যাসী হয়ে যান, এই ভয়ে তাঁর পিতা ভুবন মোহন ভট্টাচার্য অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে তাঁর বিবাহের ব্যবস্থা করেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সে হালিশহরের বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত রূপবতী ও গুণবতী কন্যা সুধাংশুবালার সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়।

বিবাহের পর পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্য নলিনীকান্ত ঢাকা সার্ভে স্কুলে ভর্তি হন এবং পড়া শেষ করে ওভারশিয়ার বা আমিন (Land Surveyor) হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ এবং স্বাধীনচেতা। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি তাঁকে দিয়ে কোনো অন্যায় কাজ করাতে চাইত, তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দিতেন। তবুও তাঁর সততার কারণে তাঁর কখনো চাকরির অভাব হয়নি।

জীবনের মোড় পরিবর্তন: সুধাংশুবালার অকাল মৃত্যু

নলিনীকান্তের কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি নারায়ণপুর এস্টেটে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একদিন গভীর রাতে তিনি অফিসে বসে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন, টেবিলের পাশে তাঁর স্ত্রী সুধাংশুবালা অত্যন্ত মলিন মুখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। সুধাংশুবালা তখন কুতবপুরে ছিলেন, তাই তাঁর সেখানে উপস্থিত থাকাটা ছিল সম্পূর্ণ অসম্ভব। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ছায়ামূর্তি মিলিয়ে যায়।

কয়েকদিন পর তিনি পিতার চিঠি পেয়ে জানতে পারেন, সুধাংশুবালা একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপর পূজার ছুটিতে কুতবপুরে ফিরে এসে তিনি এক মর্মান্তিক সত্যের সম্মুখীন হন। তিনি জানতে পারেন, তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী সুধাংশুবালা আর বেঁচে নেই। নারায়ণপুরে তিনি ঠিক যে সময়ে স্ত্রীর ছায়ামূর্তি দেখেছিলেন, তার ঠিক এক ঘণ্টা আগেই সুধাংশুবালার মৃত্যু হয়েছিল।

এই ঘটনা নলিনীকান্তের নাস্তিক মনে এক প্রচণ্ড বড় আঘাত হানে। যিনি মৃত্যুকেই জীবনের শেষ বলে বিশ্বাস করতেন, তিনি এখন ভাবতে বাধ্য হলেন যে মৃত্যুর পরেও জীবনের অস্তিত্ব আছে। স্ত্রী-শোক এবং “মৃত্যু কী?”—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠলেন।

সত্যের সন্ধানে: থিওসফিক্যাল সোসাইটি থেকে সদগুরুর খোঁজ

স্ত্রীর বিদেহী আত্মার সাথে যোগাযোগের আশায় নলিনীকান্ত চেন্নাইয়ের (তৎকালীন মাদ্রাজ) আদয়ারে অবস্থিত ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটি’-তে যান। সেখানে তিনি মাধ্যম (Medium) ব্যবহার করে স্ত্রীর আত্মার সাথে কথা বলতে সক্ষম হলেও, তাঁকে সশরীরে দেখতে না পেয়ে চরম হতাশ হন। তবে সেখানে তিনি জানতে পারেন যে, হিন্দু যোগী ও সাধুরাই জীবন ও মৃত্যুর এই রহস্যের প্রকৃত সমাধান দিতে পারেন।

এরপর কলকাতায় ফিরে তিনি স্বামী পূর্ণানন্দ নামক এক উচ্চশিক্ষিত সন্ন্যাসীর সংস্পর্শে আসেন। স্বামী পূর্ণানন্দ তাঁকে বোঝান যে, জগন্মাতা বা মহামায়াকে লাভ করতে পারলে তিনি তাঁর স্ত্রীকেও ফিরে পাবেন। এর জন্য তাঁকে একজন ‘সদগুরু’র আশ্রয় নিতে হবে।

তন্ত্র সাধনা: তারাপীঠে বামাখ্যাপার সান্নিধ্য

সদগুরুর সন্ধানে ব্যাকুল নলিনীকান্ত একদিন রাতে স্বপ্নে এক জটাজুটধারী সাধুকে দেখেন, যিনি তাঁকে একটি বেলপাতায় লেখা একটি ‘বীজমন্ত্র’ প্রদান করেন। কিন্তু সেই মন্ত্রের অর্থ কেউ বুঝিয়ে দিতে পারল না। হতাশায় তিনি যখন গঙ্গার জলে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন স্বপ্নে কাশী বিশ্বনাথ তাঁকে নির্দেশ দেন বীরভূমের তারাপীঠে গিয়ে তান্ত্রিক গুরু ‘বামাখ্যাপা’র শরণাপন্ন হতে।

বামাখ্যাপা নলিনীকান্তের মন্ত্র দেখে বুঝতে পারেন যে স্বয়ং দেবী তারা তাঁকে কৃপা করেছেন। তিনি তাঁকে শিষ্যরূপে গ্রহণ করেন। বামাখ্যাপার নির্দেশে এক অমাবস্যার রাতে তারাপীঠের মহাশ্মশানে বসে কঠোর সাধনার মাধ্যমে নলিনীকান্ত দেবী তারার সাকার রূপ দর্শন করেন। দেবী তাঁকে বর দেন যে তিনি যখনই চাইবেন, দেবীকে তাঁর স্ত্রী সুধাংশুবালার রূপে দেখতে পাবেন।

কিন্তু নলিনীকান্ত এতেও সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি দেখলেন, দেবী তাঁর নিজের শরীর থেকেই নির্গত হচ্ছেন এবং আবার তাঁর শরীরেই মিলিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল, “যদি দেবী আমার ভেতর থেকেই আসেন, তবে আমি কে?” বামাখ্যাপা তাঁকে জানালেন, এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তাঁকে জ্ঞানমার্গের সাধনা করতে হবে।

জ্ঞান ও যোগ সাধনা: নলিনীকান্ত থেকে 'নিগমানন্দ'

বামাখ্যাপার নির্দেশে নলিনীকান্ত রাজস্থানের পুষ্করে স্বামী সচ্চিদানন্দ সরস্বতীর কাছে যান এবং বেদান্ত ও ব্রহ্মজ্ঞানের দীক্ষা নেন। স্বামী সচ্চিদানন্দ তাঁকে সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তাঁর নাম রাখেন ‘নিগমানন্দ’, কারণ তিনি অত্যন্ত সহজেই নিগম বা বেদের গূঢ় তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারতেন।

এরপর গুরু সচ্চিদানন্দের নির্দেশে তিনি যোগগুরু সুমেরু দাসের খোঁজে কামাখ্যা এবং পরে দুর্গম পরশুরাম তীর্থের গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করেন। সেখানে অনেক বাধা-বিপত্তি ও প্রাণঘাতী রোগের সম্মুখীন হওয়ার পর অবশেষে তিনি যোগীরাজ সুমেরু দাসের দেখা পান। তাঁর কাছে যোগশিক্ষা লাভ করে স্বামী নিগমানন্দ ‘নির্বিকল্প সমাধি’ লাভ করেন। এই অবস্থায় তিনি উপলব্ধি করেন যে স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে কোনো ভেদ নেই, তিনি নিজেই সেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অংশ—”অহং ব্রহ্মাস্মি”।

প্রেম ও ভক্তি সাধনা: কাশী থেকে গৌরী মায়ের আশ্রম

জ্ঞান ও যোগে সর্বোচ্চ সিদ্ধি লাভের পর ১৯০৭ সালে এলাহাবাদের কুম্ভমেলায় স্বামী নিগমানন্দকে ‘পরমহংস’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কিন্তু তাঁর সাধনা তখনও অসম্পূর্ণ ছিল।

কাশীতে অবস্থানকালে একবার তাঁর মনে ঈশ্বর ও দেব-দেবীর সাকার রূপ নিয়ে অহংকার তৈরি হয়। তিনি ভাবতেন নিরাকার ব্রহ্মজ্ঞানই শ্রেষ্ঠ। সেসময় এক বৃদ্ধার বেশে স্বয়ং দেবী অন্নপূর্ণা তাঁকে ‘সিতাভোগ’ খেতে দেন এবং পরে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বলেন যে তাঁর জ্ঞান এখনও অসম্পূর্ণ। ভগবান নিরাকার হলেও ভক্তের প্রেমে তিনি সাকার রূপ ধারণ করেন।

এরপর স্বামী নিগমানন্দ হিমালয়ে প্রখ্যাত মহিলা সাধিকা ‘গৌরী মা’-এর আশ্রমে যান। গৌরী মা তাঁকে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেম ও ভক্তি মার্গ সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তিনি বোঝান যে, ঈশ্বরকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তাঁকে ভালোবাসতে হবে। ঈশ্বরের সেবাই হলো জীবের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। ভক্তি ও প্রেমের এই দীক্ষা লাভ করে স্বামী নিগমানন্দের সাধনা সম্পূর্ণতা লাভ করে। তিনি সনাতন ধর্মের চারটি মূল স্তম্ভ—তন্ত্র, জ্ঞান, যোগ এবং প্রেম—সবকটিতেই সিদ্ধি লাভ করেন।

জগদ্গুরু রূপে আত্মপ্রকাশ ও সামাজিক অবদান

সমস্ত সিদ্ধি লাভের পর জগন্মাতার নির্দেশে স্বামী নিগমানন্দ সমাজ সংস্কার ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে আধ্যাত্মিক পথ দেখানোর জন্য তিনি পাঁচটি অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেন—যোগীগুরু, জ্ঞানীগুরু, তান্ত্রিকগুরু, প্রেমিকগুরু এবং ব্রহ্মচর্য সাধন।

সনাতন ধর্মের প্রচার, প্রকৃত শিক্ষা (সৎশিক্ষা) বিস্তার এবং দরিদ্র নারায়ণ সেবার উদ্দেশ্যে তিনি আসামের কোকিলামুখে ‘আসাম-বঙ্গীয় সারস্বত মঠ’ এবং ১৯৩৪ সালে পুরীতে ‘নীলাচল সারস্বত সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৮ সাল থেকে তিনি ‘আর্যদর্পণ’ নামক একটি ধর্মীয় মাসিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন, যা সে যুগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

তাঁর আদর্শের মূল ভিত্তি — “শংকরের মত ও গৌরাঙ্গের পথ”। অর্থাৎ, আত্মজ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে মানবজাতির প্রতি অকৃত্রিম ভক্তি ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা। তিনি তাঁর শিষ্যদের আদর্শ গৃহস্থ জীবনযাপন করতে, সংঘবদ্ধ হয়ে চলতে এবং পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে নির্দেশ দেন।

মহাসমাধি ও চিরন্তন উপস্থিতি

১৯৩৫ সালের ২৯শে নভেম্বর, কলকাতায় স্বামী নিগমানন্দ পরমহংসদেব তাঁর নশ্বর দেহ ত্যাগ করে ‘মহাসমাধি’ লাভ করেন। কিন্তু তিনি তাঁর ভক্তদের কথা দিয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি গুরু হিসেবে সর্বদা তাদের মাঝে বিরাজ করবেন। তিনি তাঁর শিষ্যদের একটি সহজ মহামন্ত্র দিয়ে যান— “জয়গুরু”। তিনি বলেছিলেন, “তোমরা আমাকে একটু ভালোবাসো, তাহলে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য তোমাদের আর কোনো কঠোর সাধনা করতে হবে না। তোমাদের সমস্ত দায়িত্ব আমিই গ্রহণ করব।”

স্বামী নিগমানন্দের জীবন শুধু একজন সাধকের জীবন নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান। নাস্তিকতা থেকে শুরু করে ঈশ্বর উপলব্ধির চরম শিখরে আরোহণ—তাঁর এই যাত্রা আধুনিক কালের প্রতিটি সন্দেহপ্রবণ মানুষের জন্য এক বিশাল শিক্ষণীয় বিষয়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, সংসার থেকে পালিয়ে নয়, বরং সংসারের সব দায়িত্ব পালন করে, আদর্শ জীবনযাপন করে এবং জীবের মধ্যে শিবের সেবা করেই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব। স্বামী নিগমানন্দের সেই শাশ্বত বাণী ও দর্শন আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে আলোর দিশারি হয়ে আছে।

Home
Timeline
Article
Library
Login