স্বামী নিগমানন্দের দর্শন: আধুনিক জীবনে 'শংকরের মত' ও 'গৌরাঙ্গের পথের' এক অপূর্ব সমন্বয়
আধুনিক এই ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমরা সবাই যেন এক অজানা শান্তির খোঁজে ছুটে চলেছি। বাহ্যিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আর প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের মাঝেও আমাদের ভেতরের শূন্যতা যেন কিছুতেই কাটছে না। ঠিক এই জায়গাতেই আধ্যাত্মিকতার প্রয়োজন অনুভূত হয়। কিন্তু আধ্যাত্মিকতা মানেই কি সংসার ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়ে হিমালয়ের গুহায় বসে থাকা? একেবারেই না! আর এই সত্যটিই যিনি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছিলেন, তিনি হলেন শ্রী শ্রী স্বামী নিগমানন্দ পরমহংসদেব।
স্বামী নিগমানন্দ: এক নাস্তিক তরুণের পরমহংস হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর যাত্রা
স্বামী নিগমানন্দের পূর্বাশ্রমের নাম ছিল নলিনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। প্রথম জীবনে তিনি ঈশ্বর, ধর্ম বা সাধুসন্ন্যাসীদের একেবারেই বিশ্বাস করতেন না। স্কুলের বই পড়ে তিনি জেনেছিলেন যে সূর্য একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড এবং চাঁদ-গ্রহ সব ধুলোবালির তৈরি; তাই হিন্দুরা যে এদের পূজা করে, তা দেখে তাঁর খুব কষ্ট হতো। তাঁর মতে ধর্ম মানে ছিল কেবল মানুষের ভালো করা এবং একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করা।
কিন্তু তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ও গুণবতী স্ত্রী সুধাংশুবালার অকাল মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি “মৃত্যু কী?” এবং “মৃত্যুর পর জীবনের অস্তিত্ব আছে কি না?”—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
স্ত্রীর বিদেহী আত্মার সাথে যোগাযোগের আশায় তিনি চেন্নাইয়ের থিওসফিক্যাল সোসাইটিতে যান, কিন্তু সেখানে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এরপর প্রকৃত জ্ঞান লাভের আশায় তিনি এক দীর্ঘ ও কঠোর সাধনার পথে নামেন। একে একে তিনি চারজন গুরুর সান্নিধ্যে আসেন এবং সনাতন ধর্মের চারটি মূল পথ—তন্ত্র, জ্ঞান, যোগ এবং প্রেম—সবকটিতেই সর্বোচ্চ সিদ্ধি লাভ করেন।
তন্ত্রগুরু বামাক্ষ্যাপার নির্দেশনায় তিনি তারাপীঠে সিদ্ধিলাভ করে জগন্মাতার দর্শন পান। এরপর রাজস্থানে জ্ঞানীগুরু স্বামী সচ্চিদানন্দ সরস্বতীর কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং ‘নিগমানন্দ’ নাম লাভ করেন। যোগ সাধনায় তিনি নির্বিকল্প সমাধি লাভ করেন এবং পরিশেষে গৌরী মায়ের কৃপায় প্রেম বা ভক্তিযোগের চরম উপলব্ধি অর্জন করেন।
নিগমানন্দের দর্শনের মূল ভিত্তি: "শংকরের মত ও গৌরাঙ্গের পথ"
স্বামী নিগমানন্দের দর্শনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্বজনীনতা এবং অপূর্ব সমন্বয়। তাঁর আদর্শের মূল মন্ত্র ছিল— “শংকরের মত ও গৌরাঙ্গের পথ“।
১. শংকরের মত (অদ্বৈত বেদান্ত): অষ্টম শতাব্দীর আধ্যাত্মিক সংস্কারক আদি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত মতবাদ অনুসারে, জীব এবং ব্রহ্ম (পরমাত্মা) অভিন্ন; অর্থাৎ “অহং ব্রহ্মাস্মি” বা আমিই ব্রহ্ম।
২. গৌরাঙ্গের পথ (ভক্তি ও প্রেম): শঙ্করাচার্যের এই উচ্চমার্গের জ্ঞান অর্জন করা সাধারণ সংসারী মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। তাই স্বামী নিগমানন্দ দেখালেন এক সহজ পথ—শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তি ও প্রেমের পথ। ভক্তি ও সেবার মাধ্যমে চিত্তশুদ্ধি ঘটে, আর চিত্তশুদ্ধি হলেই সেই অদ্বৈত জ্ঞান বা পূর্ণজ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়। নিগমানন্দদেব বলেন যে, জ্ঞানযোগের মাধ্যমে আত্মজ্ঞান লাভ করাই হলো মানুষের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক লক্ষ্য। তিনি তাঁর গ্রন্থে বলেছেন, আত্মতত্ত্ব বা ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হলে আর কোনো শোক থাকে না এবং মানুষ সমস্ত সংসার-দুঃখ থেকে উত্তীর্ণ হয়।
তিনি বিশ্বাস করতেন, “জীবে শিব জ্ঞানে সেবা” বা মানবজাতির সেবাই হলো সবচেয়ে বড় ধর্ম। পরিবারের গণ্ডি থেকে শুরু করে সমাজ এবং সমগ্র মানবজাতির মধ্যে নিজের সত্তাকে প্রসারিত করার শিক্ষাই তিনি দিয়েছেন।
সনাতন ধর্মের চার স্তম্ভ: নিগমানন্দের আলোকে
স্বামী নিগমানন্দের সাধন-জীবন ছিল একটি সম্পূর্ণ বৃত্তের মতো। তিনি হিন্দুধর্মের প্রতিটি মার্গকে নিজে পরীক্ষা করে তার সত্যতা প্রমাণ করেছিলেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত পাঁচটি গ্রন্থ—যোগীগুরু, জ্ঞানীগুরু, তান্ত্রিকগুরু, প্রেমিকগুরু এবং ব্রহ্মচর্য সাধন—এর মাধ্যমে এই পথগুলোকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করেছেন। আসুন, এই চার মার্গ বা পথের নিগূঢ় তত্ত্বগুলো একটু গভীরভাবে জেনে নিই:
১. যোগের পথ: মন ও প্রাণের সংযম
বিনা যোগে কখনো দিব্যজ্ঞান বা আত্মসাক্ষাৎকার লাভ হয় না। যোগ মানে কেবল কিছু শারীরিক ব্যায়াম নয়; মহর্ষি পতঞ্জলির মতে “যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধঃ”—অর্থাৎ চিত্তবৃত্তির নিরোধ করার নামই যোগ। নিগমানন্দদেব বলেছেন, আমাদের মন অত্যন্ত চঞ্চল; আর এই চঞ্চল মনকে স্থির করার একমাত্র উপায় হলো প্রাণবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করা। মন এবং প্রাণ একে অপরের সাথে এমনভাবে যুক্ত যেমন দুগ্ধ ও জল। তাই প্রাণায়াম এবং কুম্ভকের মাধ্যমে প্রাণবায়ুকে স্থির করতে পারলে চিত্ত আপনা-আপনি স্থিরতা প্রাপ্ত হয়।
তিনি ‘অজপা গায়ত্রী‘ বা ‘হংস’ জপের একটি চমৎকার সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন। মানুষের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথেই প্রাকৃতিকভাবে “হং-সঃ” ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে—নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় ‘হং’ (শিবস্বরূপ) এবং গ্রহণের সময় ‘সঃ’ (শক্তিস্বরূপ)। এই ‘সোহহং’ (আমিই তিনি) মন্ত্রে মনঃসংযোগ করতে পারলে সাধারণ সংসারী মানুষও ঘরে বসে পরম শান্তি ও ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করতে পারে।
২. তন্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব ও কুসংস্কার খণ্ডন
আমাদের সমাজে ‘তন্ত্র’ বা ‘তান্ত্রিক’ শব্দটি শুনলেই অনেকেই শিহরিয়া ওঠেন। মদ, মাংস বা মৈথুন (পঞ্চ ম-কার)—এই বিষয়গুলোর ভুল ব্যাখ্যার কারণেই তন্ত্রশাস্ত্র আজ সবচেয়ে বেশি নিন্দিত ও ভুল বোঝার শিকার। স্বামী নিগমানন্দ তাঁর গ্রন্থে এই ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন।
তন্ত্রের পঞ্চ ম-কার বলতে আসলে কী বোঝায়?
মদ্য: মদ্যপান মানে নেশায় মাতাল হওয়া নয়। যোগসাধনার মাধ্যমে ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে যে অমৃতধারা ক্ষরিত হয়, তা পান করে আনন্দময় হওয়ার নামই প্রকৃত মদ্য-সাধন।
মাংস: মাংস মানে কোনো পশুর মাংস খাওয়া নয়। ‘মা’ শব্দের অর্থ রসনা বা বাক্য; সেই বাক্যের সংযম করা বা মৌনাবলম্বন করাকেই মাংস-সাধক বলা হয়।
মৎস্য: ইড়া ও পিঙ্গলা নাড়ীতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিকে প্রাণায়াম দ্বারা রুদ্ধ করে কুম্ভকের পুষ্টি সাধন করার নামই মৎস্য-সাধন।
মুদ্রা: অসৎ সঙ্গ পরিত্যাগ করার নামই মুদ্রা।
মৈথুন: মূলাধারস্থিত কুণ্ডলিনী শক্তিকে যোগসাধনার দ্বারা সহস্রারে নিয়ে গিয়ে শিবের সাথে মিলন ঘটানোর নামই প্রকৃত মৈথুন বা পরম তত্ত্ব।
আসলে তন্ত্র হলো অত্যন্ত উন্নত একটি আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান। ভোগাসক্ত মানুষকে ভোগের পথ দিয়েই ধীরে ধীরে নিবৃত্তির পথে নিয়ে আসার এই যে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, সেটিই তন্ত্রশাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
৩. জ্ঞানের পথ: আত্মতত্ত্বের সন্ধান
জ্ঞানযোগের মূল কথা হলো—’আমি কে?’ এবং ‘এই জগৎ কী?’—এই বিষয়গুলোর যথাযথ স্বরূপ উপলব্ধি করা। আত্মজ্ঞান ব্যতীত কখনোই মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। নিগমানন্দ বলেছেন, বেদ-বেদান্ত পাঠ করে কেবল তর্কের জাল বিস্তার করলে প্রকৃত জ্ঞান হয় না, যদি না নিজের ভেতরে সেই উপলব্ধির সঞ্চার হয়।
৪. প্রেম ও ভক্তির পথ
জ্ঞানের পথ অত্যন্ত রুক্ষ ও শুষ্ক। তাই স্বামী নিগমানন্দের দর্শনে প্রেমের স্থান সবার উপরে। তিনি গৌরী মায়ের কাছ থেকে শিখেছিলেন যে, ভগবানকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; তাঁকে ভালোবাসতে হবে। যেমন একজন মা তার সন্তানকে ভালোবাসে, একজন বন্ধু তার বন্ধুকে ভালোবাসে—ঠিক সেইভাবে ভগবানকে নিজের সবচেয়ে কাছের জন ভেবে ভালোবাসতে হবে। জ্ঞানযোগের মাধ্যমে তিনি ব্রহ্মের নিরাকার রূপ উপলব্ধি করেছিলেন, কিন্তু ভক্তিযোগ তাঁকে শিখিয়েছিল যে ভগবান নিরাকার হয়েও ভক্তের ভালোবাসায় সাকার রূপ ধারণ করেন। ভক্তি থাকলে ভগবান নিজেই ভক্তের হাত ধরে তাকে ভবপার করে দেন।
ধর্মের অধিকার ভেদ: সবার পথ এক নয়
স্বামী নিগমানন্দের দর্শনের একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত দিক হলো ‘অধিকার ভেদ’ বা যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধনার স্তর নির্ধারণ। হিন্দুধর্মে এত বিভিন্ন দেব-দেবী এবং উপাসনা পদ্ধতির কারণ কী? তিনি খুব সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন—অশিক্ষিত ব্যক্তি যেমন সরাসরি দর্শন বা বিজ্ঞান পাঠ করতে পারে না, তাকে প্রথমে বর্ণপরিচয় শিখতে হয়; ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তির কোনো আধ্যাত্মিক জ্ঞান নেই, তাকে প্রথমেই ব্রহ্মজ্ঞানের কথা বললে সে কিছুই বুঝবে না।
তন্ত্র ও অন্যান্য শাস্ত্রে সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক—এই তিন প্রকার গুণের ওপর ভিত্তি করে সাধনার বিভিন্ন স্তর নির্দেশ করা হয়েছে। যার যেমন প্রকৃতি ও মানসিক অবস্থা, তার জন্য ঠিক তেমনই সাধনার পথ উপযুক্ত। ধীরে ধীরে চিত্তশুদ্ধি হলে মানুষ নিচুতলা থেকে ওপরের দিকে অগ্রসর হয়।
আদর্শ গৃহস্থ জীবন ও সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব
স্বামী নিগমানন্দ তাঁর শিষ্য ও ভক্তদের জন্য যে নির্দেশিকা দিয়ে গেছেন, তা আজকের সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি সন্ন্যাস নেওয়ার চেয়ে ‘আদর্শ গৃহস্থ জীবন’ যাপন করার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি চাই তোমরা আদর্শ পরিবার গঠন করো। প্রাচীনকালে এমন আদর্শ পরিবার ছিল বলেই সমাজে শান্তি ছিল।” তাঁর মতে, একজন গৃহস্থ ভক্ত আধ্যাত্মিকভাবে অনেক বেশি উন্নত হতে পারে। যখন কোনো গৃহস্থ আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করেন, তখন তার সন্তানরাও সুচরিত্রের অধিকারী হয় এবং সেই পরিবারে ব্যাস, বশিষ্ঠ বা পতঞ্জলির মতো মহাপুরুষের জন্ম হতে পারে।
এছাড়াও তিনি ভক্তদের ‘সংঘ‘ গঠন করে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ভক্তদের নিয়মিত একত্রিত হয়ে প্রার্থনা করা এবং নিজেদের মধ্যে আধ্যাত্মিক ভাবের আদান-প্রদান বা ‘ভাব বিনিময়’ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি দরিদ্র ও অসহায়দের সেবার জন্য একটি তহবিল গঠন করতে বলেছিলেন, কারণ দরিদ্রের সেবা করা মানেই সাক্ষাৎ নারায়ণের সেবা করা—যা মনকে শুদ্ধ করে।
গুরুতত্ত্ব: সদগুরুর প্রয়োজনীয়তা
আধ্যাত্মিক পথে হাঁটার জন্য একজন ‘সদগুরু’ বা প্রকৃত গুরুর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। নিগমানন্দের মতে, গুরু কোনো সাধারণ মানুষ নন; তিনি জগদগুরু বা স্বয়ং ঈশ্বর। গুরু ছাড়া মায়াপাশ ছিন্ন করে দিব্যজ্ঞান লাভ করা অসম্ভব। কিন্তু আজকাল গুরুগিরি একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যারা নিজেরাই অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে আছে, তারা কীভাবে অপরের পথপ্রদর্শক হবে? তাই স্বামী নিগমানন্দ সতর্ক করে বলেছেন, শান্ত, বিনীত, শুদ্ধাচারী, বেদজ্ঞ এবং আত্মশক্তি সঞ্চারণে সক্ষম ব্যক্তিকেই গুরু হিসেবে বরণ করা উচিত।
তিনি তাঁর ভক্তদের একটি সহজ মহামন্ত্র দিয়ে গেছেন—”জয়গুরু“। তিনি বলেছেন, “তোমরা আমাকে একটু ভালোবাসো, তাহলে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য তোমাদের আর কোনো কঠোর সাধনা করতে হবে না।” তাঁর চরণে আত্মনিবেদন করতে পারলে, তিনি নিজেই শিষ্যের আধ্যাত্মিক জীবনের সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কেন আমরা স্বামী নিগমানন্দকে অনুসরণ করবো?
স্বামী নিগমানন্দ পরমহংসদেবের দর্শন কোনো কাল্পনিক বা পুথিগত বিদ্যা নয়। তিনি নিজে কঠোর সাধনার আগুনে পুড়ে যে খাঁটি সোনা অর্জন করেছিলেন, সেটিই তিনি তাঁর গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁর “যোগীগুরু“, “জ্ঞানীগুরু“, “তান্ত্রিকগুরু“, “প্রেমিকগুরু” এবং “ব্রহ্মচর্য সাধন” গ্রন্থগুলো শুধুমাত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, এগুলো মানবজীবনকে একটি সম্পূর্ণ ও সার্থক রূপ দেওয়ার একেকটি ম্যানুয়াল।
আজকের এই হতাশাপূর্ণ, বস্তুবাদী ও স্বার্থপর পৃথিবীতে স্বামী নিগমানন্দের বাণী আমাদের এক নতুন আশার আলো দেখায়। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে অন্ধবিশ্বাস ও গোঁড়ামি দূরে সরিয়ে যুক্তির কষ্টিপাথরে ধর্মকে বিচার করতে হয়। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সংসারের সব দায়িত্ব পালন করেও, স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি আদর্শ জীবনযাপন করে পরম শান্তি লাভ করা যায়।
আসুন, আমরা বাহ্যিক আড়ম্বর ও লোকদেখানো ধর্মের খোলস থেকে বেরিয়ে এসে স্বামী নিগমানন্দের সেই শাশ্বত বাণীর দিকে মনোযোগ দিই—যেখানে জ্ঞান আমাদের মোহমুক্ত করবে, আর প্রেম ও ভক্তি আমাদের হৃদয়কে করবে প্রসারিত।