বাংলার সাধন-ঐতিহ্যে পথের সংখ্যা অসংখ্য। একেক সময়ে একেক পথ সময়কে পথ দেখিয়েছে। কখনো বৈদিক যাগ যজ্ঞ, কখনো বৌদ্ধ ভাব, কখনো অদ্বৈত ভাব সময়কে ধারণ করেছে। তারপর এই সময়ে এসে ভক্তি সর্বোচ্চ স্থান নিয়েছে। তার প্রধান কারনই এই যে ভক্তি সর্বজনসাধ্য, সহজতম সাধন। জ্ঞান, যোগ বা তন্ত্রের গূঢ় মন্ত্র বা ক্রিয়া বাদ দিয়ে কেবল সমর্পন ও নিবেদনের সাধন ভক্তিপথ। তবু আধুনিক সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জটিলতায় ভক্তিও আমাদের কাছে বোধহয় খানিক শক্তই হয়ে গেছে। শ্রী নিগমানন্দ দেবের প্রেমিকগুরু বইটির আলোকে আজ আমরা ভক্তির বিভিন্ন বিভাগ ও স্তরগুলি আলোচনা করবো। আমাদের উদ্দেশ্য এই যে আমরা যেন ভক্তিপথে আমাদের নিজেদের অবস্থান সঠিকভাবে চিনতে পারি এবং তদনুসারে শ্রীঠাকুরের আশীর্বাদের তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে ভক্তিপথে অগ্রসর হতে পারি।
জ্ঞান, যোগ, তন্ত্র, প্রেম চতুর্মার্গসিদ্ধ শ্রী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংস তাঁর ‘প্রেমিকগুরু’ বইটিতে ভক্তিপথ নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ করেছেন। ভক্তিপথের সমস্ত দিকগুলি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যা যা প্রসঙ্গ আসে সমস্তই তিনি অত্যন্ত সরল ভাষায় সাধারণ মানুষের বোঝার মত করে লিখেছেন। আমাদের মনে হয় এই বইটি ভালোভাবে পড়তে পারলেই ভক্তিবিষয়ে সমস্ত প্রশ্ন, সংশয় সমাধান হতে পারে। পাঠকরা বেশিরভাগই নিশ্চয় ‘প্রেমিকগুরু’ বইটি পড়েছেন। যদি এখনো পড়ার সুযোগ না হয়ে থাকে আমাদের লাইব্রেরী বিভাগে ‘প্রেমিকগুরু’ ইবুকটি দেখতে পারেন। আশ্রমের প্রচার বিভাগ থেকে আপনারা মুল বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। যদি এখনো পড়ার সুযোগ না হয়ে থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই অনুরোধ করবো মূল বইটি পড়তে।
‘প্রেমিকগুরু’ বইটি দুটি স্কন্ধে বিভক্ত। প্রথম স্কন্ধ – প্রেমভক্তি এবং দ্বিতীয় স্কন্ধ – জীবন্মুক্তি। প্রথম ভাগে ভক্তিতত্ব বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। এই পর্বে ঠাকুর অত্যন্ত প্রাঞ্জল করে ভক্তির বিভাগগুলি বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথমেই ঠাকুর জ্ঞান ও ভক্তির চিরাচরিত দ্বন্দের সনাধান করেছেন।
জ্ঞান ও ভক্তির সম্পর্ক
সাধারণতঃ আমরা জ্ঞান আর ভক্তিপথকে সম্পূর্ণ পৃথক পথ বলেই দেখতে অভ্যস্ত। স্বাভাবিকভাবেই দুই পথের অনুসরণকারীদের মধ্যে মত ও পথ সংক্রান্ত বিরোধ দেখা যায় প্রায়শঃই। ঠাকুর তাই প্রথমেই এই দুই পথের প্রকৃত সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করছেন। ঠাকুর বলছেন জ্ঞান ও ভক্তি দুই পরস্পর ভাই বোনের মত। জ্ঞানের চরিত্র পরিণত পুরুষপ্রকৃতি আর ভক্তি বালিকা চরিত্র। ফলতঃ ভক্তি সমস্ত জায়গায় সহজেই প্রবেশ করতে পারে। অন্যদিকে জ্ঞান হৃদয়ের অন্তঃপুরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
তবে জ্ঞান বড় ভাই, - তাহার নিকট বালিকা ভক্তি সর্বদাই সরমে জড় সড় হইয়া যায়; বিশেষতঃ জ্ঞান পুরুষ মানুষ, সকল স্থানে তাহার যাওয়া সম্ভবে না ; ভক্তি বালিকা - কাজেই অন্তঃপুরের সর্ব্ব স্থানেই তাহার গতি। যেখানে কূটতর্কের হিজিমিজি - অধিক দন্ত-কিচিমিচি, সেখানে ভক্তি যায় না। সে চায়, শুদ্ধবুদ্ধ সরল স্থান, - বিচার বিতর্ক বুঝে না । তবে জ্ঞানের সঙ্গে যাইতে তাহার কোন আপত্তি নাই ; তাহারা ভাই ভগিনীতে যেখানে থাকিবে, সে স্থান এক দৈব আলোকে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিবে।
~ প্রেমিকগুরু (পৃঃ ৫)
অসম্ভব সুন্দর এবং কার্যকরী এই একটিমাত্র উপমাতেই জ্ঞান ও ভক্তির সম্পর্ক পরিস্কার হয়ে ওঠে। এবং যদি এই দুইটি এক সাধকের মধ্যে উপস্থিত থাকে তবে তার চেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে। ঠাকুর নিশ্চিতভাবে জানাচ্ছেন – জ্ঞান আর ভক্তি একসাথে হলে সে স্থান দৈব আলোকে উদ্ভাসিত হবে। উন্নত পর্যায়ে অবশ্য জ্ঞানের আর প্রয়োজন বোধ থাকে না। এই কথাটিও ভালো করে বুঝে নেওয়ার মত। ঠাকুর বলছেন – যে আম খেয়েছে তার আর স্বাদের বিজ্ঞানের প্রয়োজন থাকে না। অর্থাৎ জ্ঞান শেষ অবধি বর্জিত হয়েই যায়।
সুতরাং জ্ঞান ভক্তির বিরোধী নহে, বরং জ্ঞানই ভক্তিকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আইসে। তবে কথা এই যে, ভক্তি আসিয়া একবার সমস্ত হৃদয়টা জুড়িয়া বসিলে আর জ্ঞানের প্রয়োজন কি? যে ব্যক্তি আম খাইয়াছে, তাহার আর রাসায়নিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন নাই।
~ প্রেমিকগুরু (পৃঃ ৬)
ঠাকুর অতঃপর আরো পরিস্কার করছেন ভক্তির বিশেষত্ব সম্পর্কে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে অনেকসময়ই পার্থিব আসক্তিকে ভক্তি বলে ভুল করে ফেলি। এই ভ্রম দূর না হলে, আসক্তির সঙ্গে প্রকৃত ভক্তির পার্থক্যটি ভালো করে না বুঝতে পারলে ভক্তির পথে অগ্রসর হওয়া মুস্কিল। ঠাকুর অত্যন্ত সহজ করে বুঝিয়েছেন – পার্থিব জিনিসের প্রতি আমাদের যে ইন্দ্রিয়ের টান তাকে আসক্তি বলে। একে ভক্তি বলে আমরা যেন ভুল না করি। ইন্দ্রিয়ভাবের উর্ধে একমাত্র ভগবানের প্রতি টানকেই প্রকৃত ভক্তি বলা যায়।
অভাববিশিষ্ট প্রাকৃত পদার্থের প্রতি ইন্দ্রিয়াদির গতি হইলে তাহাকে আসক্তি এবং সর্ব্বাভাব-বর্জিত অখন্ডানন্দস্বরূপ ভগবানের প্রতি উহাদিগের গতি হইলে তাহাকে ভক্তি বলা যায়।
~ প্রেমিকগুরু (পৃঃ ১৩)
ভক্তির গুণগত বিভাগ - সগুণ ভক্তি এবং নির্গুণ ভক্তি
জ্ঞানভক্তিজনিত দ্বন্দ সমাধানের পর ঠাকুর শাস্ত্রমতে ভক্তির বিভাগগুলি ব্যখ্যা করেছেন। ভক্ত হিসেবে আমাদের নিজেদের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় ভক্তির গুণগত চরিত্রবিভাগগুলি পরিস্কার হলে। আমাদের যে প্রধান তিন গুণ – তামসিক, রাজসিক ও সাত্বিক এর ওপরেই ভক্তির প্রাথমিক চরিত্র নির্ভর করে।
ভক্তি প্রধানতঃ দুই রকমের – প্রথম সগুণ বা গৌণ বা অপরা ভক্তি, দ্বিতীয় – নির্গুণ বা মুখ্যা বা পরা ভক্তি। সগুণ ভক্তি অর্থাৎ তামসিক, রাজসিক ও সাত্বিক গুণান্বিত। এই তিনের আরো তিন তিন ভাগ নিয়ে নববিধা ভক্তি বলা হয়। যে ভক্তির মধ্যে এই তিন গুণ থাকে না তাকে নির্গুণ ভক্তি বলে।
তিন ধরণের সগুণ ভক্তির স্বরূপ শ্রীঠাকুর ভাগবতের শ্লোক উদ্ধৃত করে বুঝিয়েছেন।
১। তামসিক ভক্তি হলো একেবারে প্রাথমিক স্তরের ভক্তি। এই স্তরের ভক্তির কারন হিংসা, দ্বেষ ইত্যাদি।
“অভিসন্ধায় যো হিংসাং দম্ভং মাৎসর্য্যমেব বা।
সংরম্ভী ভিন্নদৃগ্ ভাবং ময়ি কুর্যাৎ স তামসঃ।।”
(~ শ্রীমদ্ভাবগত ৩/২৯/৮)
তামসিক স্বভাবের মানুষেরা হিংসা, দম্ভ বা ঈর্ষার অভিসন্ধিতে অন্যের অহিতের জন্য ভক্তি করে। এইসমস্ত ভিন্নদর্শী ভাবের ভক্তিকে তামসিক ভক্তি বলে।
২। রাজসিক ভক্তি দ্বিতীয় স্তরের ভক্তি। এই স্তরে ভক্তির কারন যশলাভ, ঐশ্বর্য।
“বিষয়ানঅভিসন্ধায় যশ ঐশ্বর্যমেব বা।
অর্চ্চদাবর্চ্চয়েদ্ যো মাং পৃথগ্ভাব সঃ রাজসঃ।।”
(~ শ্রীমদ্ভাবগত ৩/২৯/৯)
রাজসিক স্বভাবের মানুষের যশ বা ঐশ্বর্যলাভের অভিসন্ধিতে ভক্তি অর্চনা করেন। ভক্তি ছাড়া এদের পৃথক আকাঙ্খা আছে। এমন ভক্তি রাজসিক বলে অভিহিত।
৩। সাত্বিক ভক্তি গুণময়ী ভক্তির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ । এই ভক্তির কারন মোক্ষলাভ।
“কর্মনির্হারমুদ্দিশ্য পরস্মিন্ বা তদর্পণম্।
যজেদ্ যষ্টব্যমিতি বা পৃথগ্ভাবঃ সঃ সাত্ত্বিকঃ।।”
(~ শ্রীমদ্ভাবগত ৩/২৯/৯)
সাত্বিকগুণের মানুষেরা কর্মফল ক্ষয়ের উদ্দেশ্যে বা তাঁকে কর্মফল সমর্পণ করে, স্বধর্ম অনুযায়ী ইষ্ট ভজনা, ধর্মানুষ্ঠান করেন। এরা মোক্ষকামনায় ভক্তি করেন। এই কর্মমিশ্রাভক্তি স্বাত্বিক ভক্তি। এই তিন ধরনের ভক্তির ক্রমানুসারে উত্তরণ ঘটে। এই উত্তরণ ত্বরান্বিত হয় সাধনায় এবং অনুসারী অনুষ্ঠান কর্মে।
অন্যদিকে নির্গুণভক্তি এই ত্রিগুণের ওপরে। গুণময়ী সাত্বিক ভক্তি যখন পেকে ওঠে নির্গুণ ভক্তিতে, তখন তার সত্বগুণ বিসর্জিত হয়। তখন এ ধরণের নির্গুণ ভক্তিকে বলে প্রধানীভূতা ভক্তি। প্রধানীভূতা ভক্তিতে দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, শান্ত ও মধুর রসের ভাব দেখা যায়। কাঁচা অবস্থায় যা সাত্বিক গুণময়ী ভক্তি তাই পাকা অবস্থায় সত্বগুণ বর্জন করে পঞ্চভাবে প্রধানীভূতা নির্গুণ ভক্তি হয়ে ওঠে।
আরো একধরনের নির্গুণভক্তি আছে প্রথম থেকেই নির্গুণ। একে বলে কেবলা ভক্তি। প্রধানীভূতা ভক্তির মত এ ধরণের নির্গুণভক্তি কাঁচা অবস্থাতেও সগুণ হয় না। কেবলা ভক্তির প্রাথমিক স্তরকে রাগানুগা এবং পাকা অবস্থায় রাগাত্মিকা বলা হয়।
আমাদের সবার লক্ষ্য হল এই নির্গুণ ভক্তি যা সর্বোচ্চ। আমাদের লক্ষ্য তামসিক সগুণ ভক্তি থেকে শুরু করে নির্গুণ প্রধানীভূতা ভক্তি পেরিয়ে কেবলা ভক্তিতে পৌঁছনো। কেবল যদি সাত্বিক ভক্তির স্তরটুকুতেও আমরা পৌঁছতে পারি তাহলেও পথ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে।
ভক্তির তিন স্তর - সাধনভক্তি, ভাবভক্তি, প্রেমভক্তি
এরপর ঠাকুর ভক্তির তিনটি স্তর ব্যাখ্যা করেছেন। তামসিক ভক্তি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্যায়ে কেবলা ভক্তিতে পৌঁছনো পর্যন্ত ভক্তিকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম সাধনভক্তি, তারপর ভাবভক্তি এবং সবশেষে প্রেমভক্তি। এই তিনটি স্তরের চরিত্র তাদের নামেই খানিক বোঝা যায়। প্রথম স্তরে সাধনা বা ভক্তি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব, তারপর এই সাধনে ক্রমে ভাব এবং শেষে প্রেমে উন্নীত হয়।
সাধন ভক্তির কথা বলতে গিয়ে ঠাকুর প্রথমে একটি কথা খুব পরিস্কার করে বলেছেন – “প্রেমভক্তি জীব মাত্রেরই স্বাভাবিক ধর্ম্ম।” এইখানে একটি খুব যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন উঠতে পারে। প্রেমভক্তি যদি জীবের স্বাভাবিক ধর্ম হয়, তাহলে সাধনার কিসের প্রয়োজন? ঠাকুর এইটি প্রথমেই বুঝিয়েছেন। ভাব ও প্রেমের কোন সাধন নেই। কিন্ত মায়াশক্তিতে আমাদের আত্মস্থ ধর্ম আবৃত হওয়ার আমদের ভাব ও প্রেম জাগ্রত নয়। এই ভাব তথা প্রেম বোধ উদ্রেকের জন্যেই সাধনা প্রয়োজন। সাধনভক্তি স্তরে ভক্তি ত্রিগুণ অনুসারে আমাদের মধ্যে সগুণ ভক্তি হিসেবে থাকে।
ইন্দ্রিয়গণের প্রেরণা অর্থাৎ শ্রবণ, কীর্ত্তন ও দর্শনাদি দ্বারা সাধনীয়া সামান্য ভক্তিকেই সাধন-ভক্তি বলে।
~ প্রেমিকগুরু (পৃঃ ২২)
ঠাকুর সাধনভক্তির আরো গভীরতর ভাগগুলি ব্যাখ্যা করছেন। সাধনভক্তি দুই রকম – বৈধী ও রাগানুগা। যতক্ষণ সঠিক অনুরাগ জন্মে না ততক্ষণ মানুষের শাস্ত্রভয়ে, শাসনভয়ে ভক্তি হয়। এই পর্যায়ের ভক্তিকে বৈধীভক্তি বলে। আমরা যে গুণময়ী ভক্তির কথা জানলাম তার মধ্যে সাত্বিক ভক্তিও এই বৈধীভক্তির মধ্যেই পড়ে। কারন সাত্বিক ভক্তিতেও নরকাদির ভয় থাকে। সাত্বিক ভক্ত তাঁর স্বধর্ম অনুযায়ী শ্রদ্ধাকর্ম করলেও এই ভক্তিতে ভগবানের ঐশ্বর্যজ্ঞান বজায় থাকে। তাই এই ভক্তির পক্ষে ব্রজবাসী ভক্তের মত বিশুদ্ধ প্রেমভক্তি সম্ভব হয় না।
পাঠক খুব ভালো করে ভেবে দেখুন, সাধারণ সামাজিক স্তরে আমরা প্রকৃতপক্ষে এই বৈধীভক্তিই সবচেয়ে বেশি অংশে দেখি। আমরা তামসিক ভক্তি এবং রাজসিক ভক্তি পেরিয়ে সাত্বিক ভক্তিতে পৌঁছবো, তখন মূলতঃ আমরা বৈধী ভক্তিমার্গের অন্তর্গত হলাম। বৈধীভক্তিকে মর্যাদামার্গ বলা হয়।
বৈধীভক্তির স্তরে ভক্ত প্রথমে কর্মমিশ্রা ভক্তি পালন করেন। ধীরে এই কর্মমিশ্রা ভক্তি জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিতে পরিণত হয় এবং সিদ্ধিদশায় প্রধানীভূতা নির্গুণ ভক্তি স্তরে পৌঁছয়। এর আটটি ভূমিকা বা পর্যায় আছে –
১। দীক্ষা
২। নিষ্ঠা
৩। রূচি
৪। শ্রবণ
৫। কীর্তন
৬। নির্বিকার চিত্ততা
৭। জ্ঞানোদয় (কর্মবিলোপ)
৮। সিদ্ধি (শান্তরতি আত্মারাম)
সিদ্ধি অবস্থায় পৌঁছলে সেই শান্ত আত্মারাম স্তরেও কেবলা ভক্তি অর্জন হয় না। এই অবস্থায় ভক্তিতে মহিম জ্ঞান থাকে। বৈধী ভক্তির পরে রাগানুগা ভক্তি। রাগানুগা ভক্তির পথকে বলা হয় পুষ্টিমার্গ।
অভিলষিত বস্তুতে যে স্বাভাবিকী পরম আবিষ্টতা অর্থাৎ প্রেমময় তৃষ্ণা, তাহার নাম রাগ। সেই রাগময়ী যে ভক্তি তাকে রাগাত্মিকা ভক্তি বলে। এই রাগাত্মিকা ভক্তির অনুগতা যে ভক্তি, তাহার নাম রাগানুগা ভক্তি।
~ প্রেমিকগুরু (পৃঃ ২৪)
রাগাত্মিকা ভক্তির আগে রাগানুগা ভক্তি। রাগানুগা ভক্তি হল সাধন, এবং রাগাত্মিকা হল সাধ্য। তাই রাগানুগা ভক্তি সাধনভক্তির পর্যায়ে পরিগণিত হয়।
শেষ কথা
পাঠক নিশ্চয়ই এতক্ষণে খানিক বুঝতে পারছেন আমরা নিজেরা প্রত্যেকে ভক্তির কোন স্তরে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা মায়াবশতঃ এখনো কি তামসিক বা রাজসিক ভক্তির পরে এগোতে পারছি না? বা হয়তো আমরা কেউ সাত্বিকভক্তি পর্যন্ত পৌঁছতে পারছি? আমাদের মধ্যে বৈধীভক্তির আটটি দশা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি? আমরা কি সচেষ্ট হচ্ছি? নিষ্ঠাবান, রূচিশীল হয়ে শ্রবণ ও কীর্তন করছি?
ঠাকুর ‘প্রেমিকগুরু’ বইতে এর পর ভাবভক্তি ও প্রেমভক্তির স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। খুব স্পষ্ট করে ভক্তিপথে আমাদের তিনটি প্রধান কর্তব্যের কথা বলেছেন – চিত্তশুদ্ধি, সাধুসঙ্গ এবং নামসংকীর্তন। আমরা পরবর্তী পর্বে এ বিষয়ে আলোচনা করবো।
‘প্রেমিকগুরু’ বইটি আমাদের লাইব্রেরীতে ই-বুক হিসেবে পড়তে পারেন। আশ্রমের প্রচার বিভাগ থেকে মূল বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।
Responses